ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে বৈশ্বিক সহযোগিতা চান শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০১:৪১:২৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০১:৪১:২৭ অপরাহ্ন
কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে বৈশ্বিক সহযোগিতা চান শিক্ষামন্ত্রী ছবি : সংগৃহীত
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতের আধুনিকায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ জোরদার এবং শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে বৈশ্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

শুক্রবার চীনের তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘টিভেট: কো-এমব্রেইসিং চেইঞ্জ, কো-ফোরজিং স্ট্যান্ডার্ডস, কো-ক্রিয়েটিং ফিউচার’। 

সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং শতাধিক দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। এ ছাড়া ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, শিল্পখাতের শীর্ষ নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়প্রধান এবং বিভিন্ন দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনের প্রধান বক্তা হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ তার জনগণ এবং মানবসম্পদই জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এমন একটি সেতুবন্ধন, যা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে, একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে এবং তরুণদের সম্ভাবনাকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটালাইজেশন, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি এবং সবুজ প্রযুক্তির বিকাশে বৈশ্বিক শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা পূরণে শুধু একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য।

বাংলাদেশের টিভেট সংস্কার কর্মসূচি শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় পাঠ্যক্রম শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, শিক্ষকদের পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা হালনাগাদ রাখা, শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিল্প-সংযুক্ত অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি এবং জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জুন মাসে চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীন তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীনের সফল অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষকদের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং শিল্প-সংযুক্ত ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করবে বাংলাদেশ।

সম্মেলনের প্রতিপাদ্যের আলোকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। এগুলো হলো—উদীয়মান প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও অভিযোজনক্ষম ও গতিশীল করা; বৈশ্বিক কারিগরি শিক্ষার মানদণ্ডকে নিজ নিজ দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও উন্নয়নের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা; এবং সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, নিয়োগদাতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও তরুণ সমাজের অংশীদারত্বমূলক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা।  

সম্মেলনের ফাঁকে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যমান কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন, যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তি সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সহযোগিতামূলক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উভয় পক্ষ এসব অগ্রাধিকারমূলক সহযোগিতা উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়।
 
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ